রোকন বিশ্বাস, পাবনা-প্রতিনিধিঃ
পাবনা জেলায় সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) পদে নিয়োগ পাওয়া অন্তত ১৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভূয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া এসব তথ্য ইতোমধ্যেই শিক্ষা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত এসব শিক্ষক নিয়োগের সময় ভুয়া বা সন্দেহজনক শিক্ষাগত সনদ দাখিল করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের অভাবকে কাজে লাগিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু একটি-দুটি উপজেলাই নয় পাবনার প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই এমন একাধিক শিক্ষক রয়েছেন, যাদের সনদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বোর্ডের সাথে মিলিয়ে দেখলে সনদের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, কম্পিউটার শিক্ষক পদটি প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় এখানে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভূয়া সনদের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিরা এই পদে নিয়োগ পাওয়ায় শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরাও বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ, আবার কোথাও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেও এসব নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক জানান, এটাতো জাল বলে তো আমার জানা না, সারা বাংলাদেশই জানে। কিছু কিছু কম্পিউটারের সনদ জাল আছে, এই নিয়োগ তো হয়েছে অনেক আগে আমি তো আর নিয়োগ দেই নাই, ডিজির প্রতিনিধি ডিসির প্রতিনিধি ছিলো। বেতনে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি চাকরি থাকে তাহলে বেতন থাকবে আর যদি চলে যায় তাহলে সরকার ফেরত পাবে।
এদিকে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, শিক্ষা খাতে এমন অনিয়ম চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।