একসময় আমাদের সমাজে একটি সুন্দর সংস্কৃতি ছিল, বাড়িতে ভালো কিছু রান্না হলে তার কিছু অংশ প্রতিবেশীর জন্য পাঠানো হতো। এতে শুধু একটি ভালো খাবার প্রতিবেশীর সঙ্গে ভাগ করে খাওয়া হতো না; বরং হৃদয়ের বন্ধনও দৃঢ় হতো। পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর একটি সুন্নতও আদায় হতো। কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে আবু জার, যখন তুমি তরকারি রান্না করবে তখন তাতে পানি (ঝোল) বেশি দিয়ো এবং তোমার প্রতিবেশীকে কিছু প্রদান কোরো।
(মুসলিম, হাদিস : ৬৬৭৬)
ইসলাম প্রতিবেশীর হককে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছে যে সাহাবায়ে কেরাম ধারণা করতে শুরু করেছেন, হয়তো প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকার সম্পত্তির অংশীদার বানিয়ে দেওয়া হবে। ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জিবরাইল (আ.) সর্বদা আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকেন। এমনকি আমার ধারণা হয় যে শিগগিরই তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ করে দেবেন।’
(বুখারি, হাদিস : ৫৯২৩)
যা-ই হোক, ঘরে ভালো রান্না হলে প্রতিবেশীকে পাঠানোর এই মধুর সুন্নতটি একসময় বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে দেখা যেত।
কিন্তু আজকের ব্যস্ত ও আত্মকেন্দ্রিক জীবনে সেই চর্চা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। ভালো রান্না হলে প্রতিবেশীকে পাঠানো তো দূরের কথা, কোনো মেহমান এলেও আন্তরিক আপ্যায়নের পরিবর্তে অনেক সময় দায়সারা আচরণ বা দ্রুত বিদায় দেওয়ার প্রবণতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, যা আমাদের নৈতিক ও ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইসলাম মানুষের প্রতি সদাচরণ, দানশীলতা ও মেহমানদারির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং সুদিন-দুর্দিন, সচ্ছলের দিন ও অভাবের দিনেও মানুষকে নিঃস্বার্থ খাওয়ানোর প্রবণতাকে জান্নাতিদের অভ্যাস বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, এতিম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে।