মোঃ জাহিদ হাসান।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নের মাওয়া এলাকায় এক শিশুশিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগে, একটি মহিলা মাদ্রাসার মোহতামীমকে গণধোলাই দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাওয়া এলাকার ”ইসমাঈলিয়া কারি মিয়া মাদরাসা ও জান্নাতুল ফেরদৌস মহিলা মাদরাসার” মোহতামীম মুফতি মুজাহিদুল ইসলাম সাদেকির বিরুদ্ধে ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগটি জানাজানি হলে গত ১৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাওয়ার ওয়ালটন শোরুম সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল মীমাংসার চেষ্টা করে। তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, এর আগেও ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর মুফতি মুজাহিদুল ইসলাম সাদেকির একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। ওই ঘটনার পর তাকে ইসলামি আন্দোলনের মুন্সীগঞ্জ জেলা কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মুফতি মুজাহিদুল ইসলাম সাদেকি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। পাশের একটি মাদ্রাসা ষড়যন্ত্র করে আমার প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার চেষ্টা করছে।”
এ -বিষয়ে পদ্মাসেতুর উত্তর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন জানান এ বিষয়ে আমার কাছে কয়েকটি ফোন কল এসেছিলো আমি থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করতে বলেছিলাম কিন্তু কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি।
এদিকে, এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, মুফতি মোজাহিদুল ইসলাম সাদেকি এখনো উক্ত মাদ্রাসায় আসা যাওয়া চালিয়ে যাচ্ছে। শিশু শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। কোনো প্রভাবশালী মহল যেন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।