ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ – দৈনিক মানবতার কন্ঠ

ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: April 2, 2026

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার পুঙ্গলী ইউনিয়ন পরিষদে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাভোগী নির্বাচন ও অর্থ বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ভাতার তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে একাধিক অসঙ্গতি থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নামে ভাতার কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হলেও তাদের নিজস্ব মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যদের বিকাশ নম্বর সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে সরকারি অর্থ প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে না গিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এলেও, সেখানে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা বা সুস্পষ্ট সুপারিশ উল্লেখ করা হয়নি যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিঘলীয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার সাগরের স্ত্রী হালিমা খাতুনের নামে ভাতা বরাদ্দ থাকলেও মোবাইল নম্বর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম সবুজের নম্বর।
মধ্যপুঙ্গলী এলাকার বেনজির আহম্মেদের স্ত্রী বর্না খাতুনের নাম তালিকাভুক্ত থাকলেও সেখানে দেওয়া হয়েছে ইউপি সদস্য খাইরুল ইসলামের নম্বর।
এছাড়া ০৫ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘলীয়া উত্তরপাড়া এলাকার অহেদুল ইসলামের স্ত্রী সুইটি আক্তারের নামের বিপরীতে ইউপি সদস্য আবু সাইদের মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হয়েছে।

এতে করে প্রকৃত ভাতাভোগীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে, পুঙ্গলী ইউনিয়ন পরিষদের ০৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোজাম্মেল হকের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি নথিতে বিভিন্ন সেবার জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য ১,২৫০ টাকা, নাগরিক সনদের জন্য ১০০ টাকা, প্রত্যয়নপত্রের জন্য ১০০ টাকা এবং ওয়ারিশ সনদের জন্য ১৫০ টাকা নেওয়ার উল্লেখ রয়েছে, যা সরকারি নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করছেন কি না এমন প্রশ্ন আমাদের। যদি যাচাই-বাছাই করতো তাহলে তার প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের বিস্তারিত উল্লেখ কেন করে নাই? বিশেষ করে মোবাইল নম্বরের অমিল ও ভাতা বণ্টনে সম্ভাব্য দুর্নীতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি। তাহলে কি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ পাল এই দূর্নীতির সাথে জড়িত।

এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যদি যাচাই-বাছাই সঠিকভাবে করা হয়ে থাকে, তবে প্রতিবেদনে কেন অনিয়মের সুস্পষ্ট উল্লেখ বা সুপারিশ নেই? নাকি বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে। প্রশাসনিক অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি, প্রভাবশালী মহলের চাপ, বা তদন্ত প্রক্রিয়ার দুর্বলতা।

স্থানীয়রা ক্ষোভে ও অভিযোগে একাধিক বাসিন্দা জানান, আমাদের নামে ভাতা আসে, কিন্তু আমরা টাকা পাই না। অন্যের নম্বর দিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে।

আরেকজন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে যেকোনো সেবা নিতে গেলে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা দিতে হয়। না দিলে কাজ আটকে রাখা হয়।

সচেতন মহলের দাবি, এমন পরিস্থিতিতে পুঙ্গলী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা আরো বলেন,প্রকৃত ভাতাভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এই দূর্নীতি অনিয়মের পিছনে আর কার কার হাত আছে এই বিষয়ে তদন্ত করে দূর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জোড় দাবি জানাচ্ছেন পুঙ্গলী ইউনিয়নের বাসিন্দারা।